সম্পত্তির লোভে নৃশংস অত্যাচার : খেতে দিত না ছেলে-বৌমা, নোট লিখে আত্মহত্যা বৃদ্ধ দম্পতির
मुख्य बातें
- •পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলায় সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ দম্পতির উপর অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়।
- •খাবার দিতে অস্বীকার সহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন শ্যামলাল ও মিনা কর্মকার।
- •নিজেদের দুঃখের কথা ব্যক্ত করে একটি নোট লিখে রেখেছিলেন তাঁরা।
- •ঘটনার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রাথমিকভাবে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে সম্পত্তির লোভে অত্যন্ত নির্মম অত্যাচারের শিকার হন এক বৃদ্ধ দম্পতি। স্থানীয় সূত্রে খবর, ছেলে ও পুত্রবধূর হাতে বছরের পর বছর ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন ওই দম্পতি। তাঁদের খাবার দিতেও অস্বীকার করত ছেলে-বৌমা। অবশেষে অসহায় হয়ে নিজেদের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁরা। গতকাল রাতে নিজেদের ঘরে বিষাক্ত পদার্থ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁদের বাঁচাতে পারেননি।
স্থানীয় থানায় দায়ের করা এজাহার থেকে জানা যায়, ঘটনার শিকার বৃদ্ধ দম্পতির নাম যথাক্রমে শ্যামলাল কর্মকার (৬৮) ও তাঁর স্ত্রী মিনা কর্মকার (৬২)। তাঁদের একমাত্র ছেলে অশোক কর্মকার (৪০) এবং পুত্রবধূ সুমিত্রা কর্মকার (৩৮)। গত কয়েক মাস ধরে তাঁদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন অশোক ও সুমিত্রা। জমিজমা ও সম্পত্তির লোভে তাঁদের প্রতি অবহেলা ও অত্যাচারের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিশেষ করে খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতি চরম উদাসীনতা প্রদর্শন করা হতো। এমনকি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে অস্বীকার করতেন তাঁরা। এই অবস্থায় অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি নিজেদের দুঃখের কথা ব্যক্ত করে একটি নোট লিখে রাখেন। সেই নোটেই তাঁরা উল্লেখ করেন যে তাঁদের উপর চলতে থাকা অত্যাচারের জন্যই তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
